সারাদেশ

হত্যাচেষ্টার তদন্তে নতুন তথ্য ফয়সালের সহযোগীর স্বীকারোক্তি

প্রিন্ট
হত্যাচেষ্টার তদন্তে নতুন তথ্য ফয়সালের সহযোগীর স্বীকারোক্তি

প্রকাশিত : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, রাত ১:১১

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. কবিরকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী সোমবার রাতে জানান, আগের দিন রাতে নারায়ণগঞ্জ থেকে কবিরকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাকে পল্টন থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, কবিরের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার সদর থানার বড় বিঘাই গ্রামে। একই জেলার বাসিন্দা ফয়সাল করিম মাসুদ।

র‌্যাব জানায়, গত ৫ ডিসেম্বর ফয়সাল করিমের সঙ্গে কবির বাংলামোটরে অবস্থিত শরিফ ওসমান হাদির প্রতিষ্ঠিত ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে যান। প্রাথমিকভাবে কবির বিষয়টি অস্বীকার করলেও সিসি ক্যামেরার ফুটেজে উপস্থিতির প্রমাণ মেলায় পরে তিনি স্বীকারোক্তি দেন। তার ভাষ্যমতে, তারা প্রতিষ্ঠানটি ঘুরে দেখার উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলেন।

হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় এ পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এর মধ্যে চারজনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক আব্দুল হান্নানকে প্রথমে আটক করে র‌্যাব। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের পর ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পাশাপাশি হত্যাচেষ্টার মামলায় সন্দেহভাজন ফয়সাল করিমের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু এবং ঘনিষ্ঠ বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, হামলায় জড়িতদের পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদারের মধ্যে শেরপুরের নালিতাবাড়ী থেকে দুইজনকে গ্রেফতারের তথ্য দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগকালে গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি। চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। গুলিটি তার মাথায় লাগে।

গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। সোমবার তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে।

শরিফ ওসমান হাদি জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলনের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।