সারাদেশ

সিদ্ধিরগঞ্জে পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল আঘাতের চিহ্ন দেখে হত্যার অভিযোগ: মামলা নেয়নি পুলিশ

প্রিন্ট
সিদ্ধিরগঞ্জে পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল আঘাতের চিহ্ন দেখে হত্যার অভিযোগ: মামলা নেয়নি পুলিশ

প্রকাশিত : ১০ এপ্রিল ২০২৬, রাত ২:২২

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বিপ্লব শেখ (২৭) নামে এক পোশাক শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। কারখানার মালিক ও মার্কেট কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও, মরদেহে আঘাতের চিহ্ন মেলায় এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছে নিহতের পরিবার। এদিকে অভিযোগ নিতে পুলিশের গড়িমসি এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দোহাই দিয়ে মামলা গ্রহণে বিলম্ব করার অভিযোগ উঠেছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসির বিরুদ্ধে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাত ১টা পুলিশ কোনো অভিযোগ বা মামলা গ্রহন করেনি।

নিহত বিপ্লব শেখ মুন্সিগঞ্জ সদর থানা এলাকার খোরশেদ শেখের ছেলে। তিনি গত আট বছর ধরে সিদ্ধিরগঞ্জে বসবাস করতেন এবং সাইনবোর্ড এলাকার মিতালী মার্কেটের ৫নং ভবনের চারতলায় আসাদুজ্জামান আসাদের মালিকানাধীন একটি কারখানায় সেলাইকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে ওই কারখানা থেকে বিপ্লবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা প্রো-অ্যাকটিভ হাসপাতালের সামনে লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।

নিহতের বড় বোন সীমা আক্তার জানান, কারখানা কর্তৃপক্ষ ও মার্কেট সভাপতি একেক সময় একেক রকম তথ্য দিচ্ছেন। শুরুতে তারা জানান বিপ্লব স্ট্রোকে মারা গেছেন। পরবর্তীতে আবার বলা হয় তিনি শৌচাগারে (ওয়াশরুমে) পড়ে গিয়ে মারা গেছেন।

সীমা আক্তার বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ ও মার্কেট সভাপতি তড়িঘড়ি করে আমার ভাইয়ের লাশটি আমাদের হাতে তুলে দিয়ে বিদায় করতে চায়। আমরা মরদেহ গ্রামে নিয়ে গোসল করানোর সময় শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাই। তখনই আমাদের সন্দেহ হয় যে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ওই কারখানার কাটিং মাস্টার শহীদুল্লাহর আচরণ অত্যন্ত সন্দেহজনক। তিনি একেকবার একেক ধরনের বয়ান দিচ্ছেন। এছাড়া ভোর ৬টার সময় বিপ্লবকে কেন তড়িঘড়ি করে কারখানায় ডেকে আনা হয়েছিল, সেই প্রশ্নেরও কোনো সদুত্তর মিলছে না।

পরিবারটি প্রথমে তাদের স্থানীয় থানায় গেলে সেখান থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় পাঠানো হয়। তবে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি সরাসরি মামলা না নিয়ে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে মামলা নেওয়া হবে বলে সময়ক্ষেপণ করছেন। 

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসিকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এদিকে মৃতদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুতকারী সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই মোস্তফা কামালের মোবাইলে কল করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। থানার কর্তব্যরত অফিসার সামছুদ্দোহাকে ফোন করা হলে তিনি লাশের ব্যাপারে কিছু জানেন না বলে উল্লেখ করেন। রহস্যজনক এই মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।