উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন জয়রামপুর এলাকায় অবস্থিত সিদ্ধেশ্বরী বটতলাকে কেন্দ্র করে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই প্রাচীন বটবৃক্ষ সিদ্ধেশ্বরী দেবীর প্রতীক। প্রতি বছর নববর্ষের শুরুতে এখানে পূজা দিলে সংসারে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে। এই বিশ্বাস থেকেই নববধূ থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠ নারীরা বটগাছের নিচে জড়ো হয়ে কড়ি বেঁধে মানত করেন এবং প্রার্থনা জানান।
মেলার দ্বিতীয় দিনে সরজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজারো ভক্তের ঢল নেমেছে। রঙিন শাড়ি আর ফুলেল সাজে নারীরা ফল, মিষ্টান্ন ও পূজার সামগ্রী নিয়ে পূজা-বেদনায় অংশ নিচ্ছেন। কেউ মানত পূরণে কবুতর উড়িয়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ মেতেছেন আনন্দ আড্ডায়।
মেলার মূল আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে মৃৎশিল্পের তৈরি টেপা পুতুল, মাটির হাঁড়ি-পাতিল ও খেলনা। এছাড়া বাঁশ, কাঠ ও লৌহশিল্পের তৈরি গৃহস্থালি পণ্য এবং হরেক রকমের মিষ্টান্ন ও মণ্ডা-মিঠাইয়ের দোকানে সাজানো হয়েছে স্টলগুলো।
মেলার আয়োজক কমিটির কর্মকর্তা নিলোৎপল রায় জানান, এটি সম্পূর্ণ সার্বজনীন একটি উৎসব। এখানে সব ধর্মের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকে, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত বলেন, এই ঐতিহ্যবাহী মেলাটি মূলত নারী-কেন্দ্রিক। মেলার শৃঙ্খলা ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বাঙালির শেকড় আর লোকজ বিশ্বাসের টানে শতবর্ষী এই বউ মেলা আজও তার নিজস্ব মহিমায় উজ্জ্বল হয়ে আছে।
মতামত