সরেজমিনে সুমিলপাড়া ও আইলপাড়া এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কারখানার ডাস্ট (ধুলা) অনবরত বাতাসে মিশছে। বাতাসের ঝাপটায় এই ধুলা ছড়িয়ে পড়ছে বসতবাড়িতে। স্থানীয় নারীরা ক্ষোভের সাথে জানান, ঘরের আসবাবপত্র, দেয়াল, ফ্লোর সবই সবসময় সিমেন্টের আস্তরণে ঢাকা থাকে। দিনে তিনবার গোসল করেও নিস্তার মিলছে না। থালাবাসন থেকে শুরু করে পরিধেয় কাপড়, কোনো কিছুই পরিষ্কার রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি সিমেন্টের প্রভাবে ঘরের টিনের চাল দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় প্রতি বছর তা পরিবর্তন করতে হচ্ছে।
কারখানার প্রধান ফটক থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে অবস্থিত ৯৩নং সুমিলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন শত শত কোমলমতি শিক্ষার্থী এই বিষাক্ত ধুলার মধ্যেই ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে। পরিবেশের ওপরও পড়েছে বিরূপ প্রভাব। গাছের পাতায় ধুলা জমে থাকায় সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। ফলে গাছপালা মরে যাচ্ছে, কার্বন-ডাই-অক্সাইড বেড়ে গিয়ে এলাকায় অসহনীয় তাপমাত্রা বিরাজ করছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে এই দুর্ভোগ চললেও ক্ষমতার দাপটে মালিকপক্ষ সবসময় নির্বিকার ছিল।
৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন অভিযোগ করেন, সাতঘোড়া সিমেন্ট কারখানা এলাকাবাসীর জন্য অভিশাপ। সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত নূর আলম সিদ্দিকীর দুই ছেলে তাহজিব আলম সিদ্দিকী ও তানজির আলম সিদ্দিকীর মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গত ১৭ বছর কেউ মুখ খুলতে পারেনি। সাবেক কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতিও কারখানা থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তাদের সুরক্ষা দিয়েছেন। প্রতিবাদ করলেই মামলা-হামলার শিকার হতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে।
এ বিষয়ে কারখানাটির এডমিন ম্যানেজার আলাউল হক জানান, এলাকাবাসীর সমস্যার কথা তারা জেনেছেন এবং এটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ এইচ এম রাশেদ বলেন, সাতঘোড়া সিমেন্ট কারখানার বিষয়ে আমাদের কাছে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। এলাকাবাসী লিখিত আবেদন করলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এলাকাবাসীর দাবি: নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও সিটি প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দ্রুত এই দূষণ বন্ধ বা কারখানা স্থানান্তর করা না হলে তারা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
মতামত