সারাদেশ

জেলা প্রশাসকের নির্দেশে শুরু হলো ফতুল্লার ভাঙা সড়ক মেরামত

প্রিন্ট
জেলা প্রশাসকের নির্দেশে শুরু হলো ফতুল্লার ভাঙা সড়ক মেরামত

প্রকাশিত : ৩০ জুন ২০২৬, রাত ৯:১১

ফতুল্লার দীর্ঘদিনের ভাঙাচোরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবশেষে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের তাৎক্ষণিক নির্দেশে মঙ্গলবার সকাল থেকে সড়কটির মেরামত কাজ শুরু হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসানের আশা দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা ইউনিয়নের চাষাড়া টু সাইনবোর্ড লিংক রোড থেকে বৃহত্তর ইসদাইর এলাকায় প্রবেশের সড়কটি গত পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে চলাচলের অনুপযোগী অবস্থায় ছিল। বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও ভাঙনের কারণে প্রতিদিনই রিকশা ও অন্যান্য যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হতো। অনেক সময় যানবাহনের বাম্পার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পথচারীরাও আহত হয়েছেন। ড্রেনের স্লাব ভেঙে যাওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন। পাশাপাশি তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীও নিয়মিত এই পথ ব্যবহার করায় তাদের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘ সময় ধরে এলাকাবাসী সমস্যার সমাধানের অপেক্ষায় থাকলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সোমবার কার্যালয়ে যাওয়ার পথে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির সড়কটির বেহাল অবস্থা প্রত্যক্ষ করেন। পরে তিনি জেলা প্রশাসনের নিজস্ব তহবিল থেকে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের নির্দেশ দেন। নির্দেশনার পরদিনই সংস্কার কাজ শুরু হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সড়কটি যাতে দীর্ঘস্থায়ী হয়, সে লক্ষ্যেই রড, সিমেন্ট, ইটের সুরকি ও বালু ব্যবহার করে ঢালাইয়ের মাধ্যমে মেরামত করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই যান চলাচলের উপযোগী করে সড়কটি খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, জনগণের দুর্ভোগ কমানোই প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। একটি সড়কের কারণে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রিকশাচালক ও সাধারণ মানুষ কষ্ট পেলে তা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই জেলা প্রশাসন কাজ করছে। বিশেষ করে এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী চলাচল করে। তাদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতেই দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংস্কার কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা জেলা প্রশাসকের দ্রুত উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেছেন। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংস্কার শেষে সড়কটি দীর্ঘদিন টেকসই থাকবে এবং ভবিষ্যতে এমন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আরও সক্রিয় ভূমিকা নেবে।